১১ মাসের শিশুর বিরুদ্ধে মোবাইল চুরির মামলা করল মিরপুর থানা পুলিশ

গত বছর জুনে শিশুটির জন্ম । তখন এক চুরির ঘটনা ঘটে মিরপুরে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মিরপুর থানা পুলিশ ৮ মাস তদন্ত শেষে এক প্রতিবেদনে বলছে শিশুটির ওই চুরির ঘটনায় জড়িত ও সে ২৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কারও ও একটি মোবাইল ফোন চুরি করেছে। রুবেলের বয়স এখন ১১ মাস। তার বিরুদ্ধে পুলিশের এধরনের তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগের ভিত্তি কতটা হাস্যকর বরং তারচেয়েও বিস্ময়কার ব্যাপার হচ্ছে মিরপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মারুফুল ইসলাম এ মামলার একজন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে একজন মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছেন। আরিফুর রহমান ওই চুরির ঘটনার ৩ বছর আগেই মারা গেছেন। তারপরও এ মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে তাতে আরিফুর রহমানের নামও আছে।
চার্জশিটে পুলিশ অভিযোগ এনে বলছে রুবেল ও আরিফুর রহমান ওই চুরির ঘটনার পর পালিয়ে গেছে এবং তাদের গ্রেফতারের জন্যে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশের এধরনের যোগ্যতা ও বিস্ময়কর তদন্ত সম্পর্কে দুনিয়ার কেউ জানতে পারতেন না যদি না ওই চুরির মামলার ২১ আসামির অন্যতম রুবেলের বাবা আবুল কাশেম তার শিশু পুত্রকে কোলে করে গত ৩০ এপ্রিল আদালতে হাজির না হতেন এবং বিষয়টি অবহিত না করতেন। আবুল কাশেমের বক্তব্য শুনে আদালত হতবাক হয়ে পড়ে এবং পুলিশকে নির্দেশ দেয় কেন ও কিভাবে ৮ মাস বয়সের শিশু রুবেল ও মৃত আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। অসুস্থতার জন্যে পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে হাজির হতে না পারলেও তিনি এ ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্যে ১০দিনের সময় চেয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খুরশিদ আলম গতকাল মঙ্গলবার আগামী ১৬ মে এব্যাপারে আদালতকে বিস্তারিত জানাতে বলেছেন।
রুবেলের মা শামিমা আকতার গতকাল তার শিশুপুত্রকে নিয়ে আদালতে শুনানি চলাকালে এসেছিলেন। রুবেল এক পর্যায়ে কেঁদে ওঠে। যখন সাংবাদিকরা রুবেলের চারপাশে জড়ো হয়ে তাকে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকে। আদালতে রুবেলের মা শামিমা পুলিশের ওই তদন্তকর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ চুরির মামলায় আমরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছি। বাধ্য হয়েই শিশু পুত্র রুবেলকে আদালতে এনে বিচারকের শরণাপন্ন হয়েছি।

ওদিকে আরিফুর রহমানের পিতা মাহবুব উল্লাহ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তার মৃত সন্তানের বিরুদ্ধে মারা যাওয়ার পরে চুরির ঘটনায় জড়িত হওয়ার অভিযোগ দেখে। তিনি বলেন, আরিফুর রহমান ওই এলাকার একটি কসমেটিকস দোকানে কাজ করতেন এবং ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২৭ বছর বয়সে মারা যায়। ২৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আমাদের কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। কেন আমার মৃত পুত্রের বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগ সেটাই আমার জিজ্ঞাস্য। মাহবুব উল্লাহ বলেন, তার স্ত্রী ও জামাতাকেও এ ঘটনায় আসামি করা হয়েছে।

এ মামলাকারী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন ২০১১ সালে আরিফুর তার জমি ভূয়া কাগজপত্র সাজিয়ে দখল করতে চেয়েছিল। এজন্যে এফআইআরএ তার নাম ছিল। আরিফ ও এলাকার গু-ারা মিলে পিরের বাগে আমার ২৮ ডিসিমাল জমি দখল করে নিতে চেয়েছিল। তাই তার বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ করেছি। আমি জানতামনা সে মারা গেছে। কিন্তু শিশু রুবেলের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ র্তা, প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর জানান, তিনি যে রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন তার বয়স ছিল ৩০ বছর। এবং রুবেলের পিতা আবুল কাশেমও একজন হামলাকারী যে কিনা আরো সন্ত্রাসী সহ তার জমি দখলের জন্যে চেষ্টা করেছিল। আমি তাদের সকলের নাম জানি না। পুলিশ ও তাদের সংগ্রহকৃত তথ্যে স্থানীয় এলাকাবাসির পরামর্শে এ মামলায় ২১ জনের জড়িত থাকার বিষয়টি এসেছে। তবে পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে এফআইআর বিবেচনা করা, খতিয়ে দেখা কারা আসলে অপরাধী আর কারা নয়। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা আমার সঙ্গে এব্যাপারে চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে কোনো আলোচনা করেনি।

পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা মারুফুল ইসলামকে ফোনে জিজ্ঞাসা করা হয় কেন তিনি মৃত ব্যক্তি ও শিশু পুত্রকে এ মামলার আসামি হিসেবে চার্জশিটে তাদের অর্ন্তভুক্ত করেছেন। জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে জানান, পুলিশ হাসপাতালে তিনি তার অস্ত্রোপচারের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মিরপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, মারুফুলের ভুলের কারণেই চার্জশিটে এধরনের বিভ্রাট হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা মারুফুরকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
২০০৭ সালে এধরনের এক ঘটনায় এসআই রুহল আমিন ৬ বছর আগে মারা গেছে এমন এক ব্যক্তির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে চার্জশিট জমা দেওয়ার পর ঢাকার আদালত তাকে গ্রেফতারের ওয়ারেন্ট জারি করেছিল।
Share on Google Plus

About Bangla Movie Desk

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment