এবার মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম ও ভাইস
চেয়ারম্যান জার্জিস হুসাইনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী
উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। গতকাল রাতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের কথা প্রথম
আলোকে নিশ্চিত করেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেমায়েত
উদ্দীন। এই দুজনকে বরখাস্তের মধ্য দিয়ে এ সপ্তাহে সিলেট ও রাজশাহী সিটি
করপোরেশন এবং হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়রসহ মোট পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা
হলো।গত রোববার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী চেয়ারে বসার দুই ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় বরখাস্তের আদেশ পান। আর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়রের চেয়ারে বসলেও তা আট মিনিট স্থায়ী হয়। একই দিনে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছও ১১ দিন দায়িত্ব পালনের পর পদ হারান। অবশ্য এর মধ্যে গতকাল সোমবার সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে দ্বিতীয় দফায় সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। আরিফুলের করা একটি রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মুজিবনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেমায়েত উদ্দীন জানান, ২০১৩ সালে হরতাল-অবরোধের সময় পুলিশের ওপর হামলা মামলার আসামি হিসেবে আমিরুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান জার্জিস হুসাইনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় তাঁদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়।
আমিরুল ইসলাম মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জার্জিস হুসাইন উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুলিয়া মঈন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের দ্বারা ক্ষমতা প্রয়োগ জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে সরকার মনে করে। ১৯৯৮ সালের উপজেলা পরিষদ আইন সংশোধিত ২০১১-এর ১৩(খ)(১) অনুসারে তাঁদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মুজিবনগর থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারবিরোধী
হরতাল-অবরোধ পালনকালে মুজিবনগর উপজেলার গৌরিনগর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা
চালান বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। এতে মুজিবনগর থানার তৎকালীন ওসি
রবিউল হোসেনসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। পুলিশের গুলিতে শিবিরের দুই
কর্মী নিহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মুজিবনগর থানায় আমিরুল ইসলাম ও
জার্জিস হুসাইনসহ দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা করে। গত ৩০
ডিসেম্বর ১৬১ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়। পুলিশের
চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে আমিরুল ইসলাম ২ নম্বর ও জার্জিস হুসাইন ৯ নম্বর আসামি।মামলার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁদের বহিষ্কারের দাবিতে বাগোয়ান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিতাজ মল্লিক সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।
0 comments:
Post a Comment