রকিবুল হাসান, গাজী আশরাফ হোসেন, ফারুক আহমেদ, আতহার আলী খান—সবার
নির্বাচিত বাংলাদেশের সেরা টেস্ট একাদশেই আছেন তিনি। এর মধ্যে তিনজন আবার
তাঁকে রেখেছেন অধিনায়ক হিসেবে। অথচ চোটে পড়ে ২০০৯-এর পর আর টেস্টই খেলেননি
মাশরাফি বিন মুর্তজা!
বাংলাদেশের শততম টেস্ট উপলক্ষে করা চার একাদশের তিনটিতেই নেতৃত্ব পাওয়া মাশরাফির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এর প্রতিক্রিয়া। প্রসঙ্গটা তুলতেই বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক প্রথমে একটু আবেগাক্রান্তই হয়ে পড়লেন।
টেস্ট খেলি না সাত বছরের বেশি হলো। তারপরও চারজন শ্রদ্ধেয় সাবেক ক্রিকেটার আমাকে তাঁদের সেরা টেস্ট একাদশে রেখেছেন, তিনজন বলেছেন আমিই তাঁদের অধিনায়ক, অনেক বড় পাওয়া এটা। প্রথম আলোয় এটা দেখে খুবই ভালো লাগছে। আবার একটু লজ্জাও লেগেছে। যত যা-ই বলেন, টেস্ট খেলি না অনেক দিন তো হলো!তবে যত দিন টেস্ট খেলেছি, টেস্টই ছিল আমার ধ্যানজ্ঞান। কলম্বোতে শততম টেস্টের প্রথম দিন সকালে যখন সবাই লাইন ধরে দাঁড়াল, একটা খারাপ লাগা ভর করেছিল মনের মধ্যে। শততম টেস্টে আমি নেই...! খেলোয়াড়দের ওই সারিটাতে নিজেকে অনেক মিস করছিলাম। ভাগ্যটাই হয়তো খারাপ। তারপরও ভালো লাগছে যে, সবাই আমাকে মনে রেখেছেন।
সাবেকদের দলের অধিনায়ক মনোনীত হয়ে পুরোনো একটা আফসোসও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমি বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব পেয়েছি টেস্ট ক্রিকেট দিয়েই। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট ক্রিকেট দিয়েই শুরু হয়েছিল আমার অধিনায়ক-জীবন। তখন অনেক বড় করে চিন্তা করতাম সবকিছু। টেস্টে বাংলাদেশ ভালো খেলবে, আমরা ভালো খেলব—কত যে উত্তেজনা ছিল মনে! বোলিংটাও ভালো করছিলাম তখন। কিন্তু পরপর তিনটি চোটে পড়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। একটা টেস্টেও পুরো অধিনায়কত্ব করতে পারলাম না।
আমি যে ৩৬টি টেস্ট খেলছি, দেখবেন, তার ৭-৮টি বা ১০টিতেই হয় চোটে পড়েছি, অথবা চোট থেকে উঠে খেলেছি। এভাবে পারফরম্যান্সের গ্রাফ ভালো থাকে না। তবে ২০০৩-০৪-এ আবার ভালো অবস্থায় ফিরে এসেছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উইকেট পাচ্ছিলাম। ওরা তখন অনেক ভালো দল। ভারতের সঙ্গেও ভালো শুরু করলাম।
যে সময়টা ছিল টেস্টে আমার সেরা সময়, যখন সাফল্য পাচ্ছিলাম, সত্যিকার অর্থেই টেস্ট ক্রিকেট উপভোগ করতে শুরু করলাম, তখনই টেস্ট থেকে দূরে সরে গেলাম। আমার বল তখন দুই দিকেই ভালো সুইং করছিল, রিভার্স সুইং খুব ভালো হচ্ছিল। বলে পেসও ছিল ভালো। আমি তখনই অধিনায়ক হলাম এবং তখনই ওই চোট। এর আগে যা-ই খেলেছি, ধরা-ছাড়া-ধরা এভাবে খেলেছি। সে জন্য একটা আফসোস আছে। ৩৬টির মধ্যে ৩০টি টেস্টও যদি কোনো চোট ছাড়া খেলতে পারতাম, তাহলে আমার রেকর্ড হয়তো আরও ভালো থাকত।
টেস্টে তেমন ভালো কিছু করে যেতে পারলাম না, এটাই বড় আফসোস হয়ে থাকবে আমার ক্যারিয়ারে। ছোটবেলায় টেস্ট খুব একটা না বুঝলেও নিজে টেস্ট খেলা শুরুর পর থেকে আমার কাছে অন্য কিছুকে খেলাই মনে হয়নি। কে জানে, টেস্ট নিয়ে বেশি রোমাঞ্চ ছিল বলেই হয়তো বেশি খেলতে পারিনি! এখনো আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা ভালো বোলার তখনই আসবে, যখন তার টেস্টের প্রতি ‘প্যাশন’ থাকবে। ওই ঠান্ডা, ওই গরমের মধ্যে এক-দেড় শ ওভার ফিল্ডিং করার মতো শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস থাকতে হবে। এই ফরম্যাটটার প্রতি ভালোবাসা থাকলেই শুধু এটা সম্ভব। আমার মধ্যে তা যথেষ্টই ছিল। সত্যি বললে ওয়ানডে নিয়ে সেভাবে চিন্তাভাবনা কিছুই ছিল না। শুধু স্বপ্ন দেখতাম, টেস্টে ভালো করব...৫ উইকেট পাব, ৬ উইকেট পাব।
বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের কথা এখনো মনে পড়ে। তখন তো এত কিছু বুঝি না। ধরেই নিয়েছিলাম বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে দেবে। নড়াইলে স্কুলে পড়ি। বুলবুল ভাই এক শ মারলেন, সুমন ভাই ভালো ব্যাটিং করলেন। বুলবুল ভাইয়ের ব্যাটিং তো পুরো মনে আছে। দুর্জয় (নাঈমুর রহমান) ভাইয়ের বোলিংও অনেকখানি দেখেছি। খেলার নেশা ছিল। কিছু অংশ মিস হলেও বেশির ভাগই দেখেছি। তবে টেস্টে যে অনেক কিছু ঘটে, সেসব আস্তে আস্তে জেনেছি।
বাংলাদেশও এক শ ম্যাচ পর্যন্ত আসার পথে টেস্ট ক্রিকেটের অনেক কিছু জেনেছে, শিখেছে। উন্নতিও আছে অনেক। নিজেদের মাঠে টেস্ট জিতছি। নিউজিল্যান্ডে গিয়ে পাঁচ দিন খেলতে পারছি। সর্বশেষ চারটি টেস্টের তিনটিতেই আমাদের ড্র করা উচিত ছিল। এ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। তবে আমার মত একটু ভিন্ন। দুই বছর আগে আমরা কোথায় ছিলাম? তিন দিনে হারতাম, বেশি হলে চার দিন। এখন আমরা পাঁচ দিনে খেলা নিচ্ছি। কাজেই উন্নতি অবশ্যই আছে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ দিন লড়াই করা অবশ্যই উন্নতি।
তবে এখন সময় এসেছে সুযোগ কাজে লাগানোর। একটা সময় পর্যন্ত আমাদের বুঝতে বুঝতেই গেছে। এখন টেস্টের নাড়ি-নক্ষত্র আমরা মোটামুটি বুঝেছি। কাজেই জেতা সম্ভব না হলেও এটা নিশ্চিত করতে হবে, ড্র যেন আমাদের হাতছাড়া না হয়। বলতে বলতে আবারও মনে আফসোস জেগে উঠল, আহা, আবার যদি টেস্ট খেলতে পারতাম!
এরপর চমৎকারভাবে তুলে ধরলেন বাংলাদেশের টেস্ট
ক্রিকেট নিয়ে তাঁর দর্শন।
কথাগুলো মাশরাফির নিজের মুখ থেকেই শুনুন—
বাংলাদেশের শততম টেস্ট উপলক্ষে করা চার একাদশের তিনটিতেই নেতৃত্ব পাওয়া মাশরাফির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এর প্রতিক্রিয়া। প্রসঙ্গটা তুলতেই বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক প্রথমে একটু আবেগাক্রান্তই হয়ে পড়লেন।
টেস্ট খেলি না সাত বছরের বেশি হলো। তারপরও চারজন শ্রদ্ধেয় সাবেক ক্রিকেটার আমাকে তাঁদের সেরা টেস্ট একাদশে রেখেছেন, তিনজন বলেছেন আমিই তাঁদের অধিনায়ক, অনেক বড় পাওয়া এটা। প্রথম আলোয় এটা দেখে খুবই ভালো লাগছে। আবার একটু লজ্জাও লেগেছে। যত যা-ই বলেন, টেস্ট খেলি না অনেক দিন তো হলো!তবে যত দিন টেস্ট খেলেছি, টেস্টই ছিল আমার ধ্যানজ্ঞান। কলম্বোতে শততম টেস্টের প্রথম দিন সকালে যখন সবাই লাইন ধরে দাঁড়াল, একটা খারাপ লাগা ভর করেছিল মনের মধ্যে। শততম টেস্টে আমি নেই...! খেলোয়াড়দের ওই সারিটাতে নিজেকে অনেক মিস করছিলাম। ভাগ্যটাই হয়তো খারাপ। তারপরও ভালো লাগছে যে, সবাই আমাকে মনে রেখেছেন।
সাবেকদের দলের অধিনায়ক মনোনীত হয়ে পুরোনো একটা আফসোসও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমি বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব পেয়েছি টেস্ট ক্রিকেট দিয়েই। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট ক্রিকেট দিয়েই শুরু হয়েছিল আমার অধিনায়ক-জীবন। তখন অনেক বড় করে চিন্তা করতাম সবকিছু। টেস্টে বাংলাদেশ ভালো খেলবে, আমরা ভালো খেলব—কত যে উত্তেজনা ছিল মনে! বোলিংটাও ভালো করছিলাম তখন। কিন্তু পরপর তিনটি চোটে পড়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। একটা টেস্টেও পুরো অধিনায়কত্ব করতে পারলাম না।
আমি যে ৩৬টি টেস্ট খেলছি, দেখবেন, তার ৭-৮টি বা ১০টিতেই হয় চোটে পড়েছি, অথবা চোট থেকে উঠে খেলেছি। এভাবে পারফরম্যান্সের গ্রাফ ভালো থাকে না। তবে ২০০৩-০৪-এ আবার ভালো অবস্থায় ফিরে এসেছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উইকেট পাচ্ছিলাম। ওরা তখন অনেক ভালো দল। ভারতের সঙ্গেও ভালো শুরু করলাম।
যে সময়টা ছিল টেস্টে আমার সেরা সময়, যখন সাফল্য পাচ্ছিলাম, সত্যিকার অর্থেই টেস্ট ক্রিকেট উপভোগ করতে শুরু করলাম, তখনই টেস্ট থেকে দূরে সরে গেলাম। আমার বল তখন দুই দিকেই ভালো সুইং করছিল, রিভার্স সুইং খুব ভালো হচ্ছিল। বলে পেসও ছিল ভালো। আমি তখনই অধিনায়ক হলাম এবং তখনই ওই চোট। এর আগে যা-ই খেলেছি, ধরা-ছাড়া-ধরা এভাবে খেলেছি। সে জন্য একটা আফসোস আছে। ৩৬টির মধ্যে ৩০টি টেস্টও যদি কোনো চোট ছাড়া খেলতে পারতাম, তাহলে আমার রেকর্ড হয়তো আরও ভালো থাকত।
টেস্টে তেমন ভালো কিছু করে যেতে পারলাম না, এটাই বড় আফসোস হয়ে থাকবে আমার ক্যারিয়ারে। ছোটবেলায় টেস্ট খুব একটা না বুঝলেও নিজে টেস্ট খেলা শুরুর পর থেকে আমার কাছে অন্য কিছুকে খেলাই মনে হয়নি। কে জানে, টেস্ট নিয়ে বেশি রোমাঞ্চ ছিল বলেই হয়তো বেশি খেলতে পারিনি! এখনো আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা ভালো বোলার তখনই আসবে, যখন তার টেস্টের প্রতি ‘প্যাশন’ থাকবে। ওই ঠান্ডা, ওই গরমের মধ্যে এক-দেড় শ ওভার ফিল্ডিং করার মতো শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস থাকতে হবে। এই ফরম্যাটটার প্রতি ভালোবাসা থাকলেই শুধু এটা সম্ভব। আমার মধ্যে তা যথেষ্টই ছিল। সত্যি বললে ওয়ানডে নিয়ে সেভাবে চিন্তাভাবনা কিছুই ছিল না। শুধু স্বপ্ন দেখতাম, টেস্টে ভালো করব...৫ উইকেট পাব, ৬ উইকেট পাব।
বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের কথা এখনো মনে পড়ে। তখন তো এত কিছু বুঝি না। ধরেই নিয়েছিলাম বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে দেবে। নড়াইলে স্কুলে পড়ি। বুলবুল ভাই এক শ মারলেন, সুমন ভাই ভালো ব্যাটিং করলেন। বুলবুল ভাইয়ের ব্যাটিং তো পুরো মনে আছে। দুর্জয় (নাঈমুর রহমান) ভাইয়ের বোলিংও অনেকখানি দেখেছি। খেলার নেশা ছিল। কিছু অংশ মিস হলেও বেশির ভাগই দেখেছি। তবে টেস্টে যে অনেক কিছু ঘটে, সেসব আস্তে আস্তে জেনেছি।
বাংলাদেশও এক শ ম্যাচ পর্যন্ত আসার পথে টেস্ট ক্রিকেটের অনেক কিছু জেনেছে, শিখেছে। উন্নতিও আছে অনেক। নিজেদের মাঠে টেস্ট জিতছি। নিউজিল্যান্ডে গিয়ে পাঁচ দিন খেলতে পারছি। সর্বশেষ চারটি টেস্টের তিনটিতেই আমাদের ড্র করা উচিত ছিল। এ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। তবে আমার মত একটু ভিন্ন। দুই বছর আগে আমরা কোথায় ছিলাম? তিন দিনে হারতাম, বেশি হলে চার দিন। এখন আমরা পাঁচ দিনে খেলা নিচ্ছি। কাজেই উন্নতি অবশ্যই আছে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ দিন লড়াই করা অবশ্যই উন্নতি।
তবে এখন সময় এসেছে সুযোগ কাজে লাগানোর। একটা সময় পর্যন্ত আমাদের বুঝতে বুঝতেই গেছে। এখন টেস্টের নাড়ি-নক্ষত্র আমরা মোটামুটি বুঝেছি। কাজেই জেতা সম্ভব না হলেও এটা নিশ্চিত করতে হবে, ড্র যেন আমাদের হাতছাড়া না হয়। বলতে বলতে আবারও মনে আফসোস জেগে উঠল, আহা, আবার যদি টেস্ট খেলতে পারতাম!

0 comments:
Post a Comment