দেশে জঙ্গিবাদের বিপদ কতটা বিস্তৃত এবং এর শেকড় কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তার
একটি ধারণা পাওয়া গেল সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান এবং এর ফলাফলের
মধ্য দিয়ে। জঙ্গিদের আস্তানায় অভিযান চালানোর জন্য বুধবার দুপুর থেকে
বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। সেই ভবনে আটকে
থাকা সাধারণ মানুষগুলো কী অবস্থায় সেই সময়টি পার করেছে, তা আমরা অনুমান
করতে পারি। অভিযান শেষে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চার জঙ্গি নিহত হয়েছে।
এর মধ্যে তিনজনের আত্মঘাতী হওয়ার খবর সত্যিই বাড়তি উদ্বেগের বিষয়।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ রোহান গুণারত্নে সম্প্রতি পুলিশপ্রধানদের আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। প্রথম আলোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি কিছু উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেছেন। বিশেষ করে কারাগারে আটক জঙ্গিদের কীভাবে এই ভাবাদর্শ থেকে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়টিতে তিনি বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন।
বাস্তবতা হচ্ছে, জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধ ও জঙ্গি ভাবাদর্শ পরিত্যাগে উদ্বুদ্ধকরণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে না। এখন এই দিকটিতেও গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।
![]() |
গুলশানে
হলি আর্টিজানে হামলা ও এর পরপরই শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে হামলার পর সরকার
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অব্যাহত অভিযানে শীর্ষ পর্যায়ের
জঙ্গিদের অনেকেই নিহত এবং তালিকাভুক্ত ও সন্দেহভাজন অনেক জঙ্গি ধরা পড়েছে।
শক্তি-সামর্থ্যে তারা অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমনটা ধরে নেওয়াই স্বাভাবিক।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে জঙ্গিদের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আর
কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে এ ধরনের গোষ্ঠীর সংগঠিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে নতুন কোনো
জঙ্গি হামলা। ফলে এটা পরিষ্কার যে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অব্যাহত নজরদারি ও
প্রয়োজনীয় অভিযানের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী বেশ সাফল্যের নজির রাখছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও
বিশ্ববাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে সামনের
দিনগুলোতে আমাদের মতো দেশে জঙ্গিবাদের বিপদ আরও বাড়তে পারে। ফলে আমাদের
দীর্ঘ মেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করতে হবে। অভিযানের
মাধ্যমে জঙ্গিদের দমনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও
ভাবতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জঙ্গিবাদ এবং এর বিস্তার রোধ করতে জঙ্গি
ভাবাদর্শ পরিত্যাগে উদ্বুদ্ধ করার বিভিন্ন উদ্যোগ ও কৌশল হাতে নিয়েছে। সেসব
অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের দেশের উপযোগী বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে।জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ রোহান গুণারত্নে সম্প্রতি পুলিশপ্রধানদের আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। প্রথম আলোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি কিছু উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেছেন। বিশেষ করে কারাগারে আটক জঙ্গিদের কীভাবে এই ভাবাদর্শ থেকে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়টিতে তিনি বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন।
বাস্তবতা হচ্ছে, জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধ ও জঙ্গি ভাবাদর্শ পরিত্যাগে উদ্বুদ্ধকরণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে না। এখন এই দিকটিতেও গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।

0 comments:
Post a Comment